সোমবার,

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার,

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

ভারতের উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রুশ দূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:১০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
ভারতের উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রুশ দূতের

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটন ভারতকে চীনের মতো আরেকটি প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে উঠতে দেবে না। এই মন্তব্যকে ‘ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ’ বা মনের অবচেতন কথার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ।

রোববার এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য রাখার সময় আলিপভ দাবি করেন, এই বছর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত রাইসিনা সংলাপে ওই মন্তব্য করা হয়েছিল। আলিপভ বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বছর রাইসিনা সংলাপে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে- যুক্তরাষ্ট্র কখনই ভারতকে প্রতিযোগী হিসেবে পরবর্তী চীন হতে দেবে না।’

এটি একটি ফ্রয়েডিয়ান স্লিপের মতো ছিল। সুতরাং ভারত যখন ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি পরাশক্তি হয়ে উঠবে, যা অনিবার্য। তখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আটকে রাখার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। আর তাই, আমরা গ্রাহাম অ্যাক্টকে সেভাবেই দেখছি।

গ্রাহাম অ্যাক্ট বা ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ হলো সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি মার্কিন আইন, যা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য সামনে এল। গ্রাহাম অ্যাক্ট যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা দেয়।

আলিপভ এনডিটিভিকে বলেন, ভারত রাশিয়ার স্বার্থে রাশিয়ার তেল কিনছে না। ভারত তার নিজের অর্থনীতি এবং নিজের জনগণের স্বার্থে রাশিয়ার তেল কিনছে। কারণ এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এর জবাবে আমার মনে হয় ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও শক্তি দেখিয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথা যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে। এটি নিজেই একটি অযৌক্তিক বিষয়। এবং যুক্তরাষ্ট্র, আমি আবারও বলছি, তা খুব ভালো করেই জানে। আর আমার মনে হয়, ভারত যত এগিয়ে যাবে, এই ধরনের চাপ, কৌশল অব্যাহত থাকবে এবং আরও বাড়বে।

ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক
১৯৪৭ সালের এপ্রিলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গেও তা অব্যাহত থাকে। আলিপভ দুই দেশের কয়েক দশক পুরোনো কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বাস এবং সম্মানই হলো আমাদের সম্পর্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আপনি অবিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারেন না। এবং মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যেমনটি একবার উল্লেখ করেছিলেন, এটি উল্লেখযোগ্যভাবে ধারাবাহিক। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকে, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে—আগামী বছর আমরা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছি।

আলিপভ জানান, বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও এই সম্পর্ক টিকে আছে। কারণ কোনো পক্ষই তাদের সম্পর্ককে বৈশ্বিক পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল করেনি।

তিনি বলেন, এই সমস্ত দশক জুড়ে আমরা বন্ধু হয়েছি, যারা একে অপরের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়েছি—শুধু রাশিয়ার জন্য ভারত নয়, উভয় দিক থেকেই। আমরা কখনই আমাদের সম্পর্ককে কোনো তাৎক্ষণিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর শর্তযুক্ত করিনি, তাই আমরা কখনই আমাদের সম্পর্ককে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে বিবেচনা করিনি। আমার মনে হয় এই ধারাবাহিকতা, বছরের পর বছর ধরে একে অপরকে সহায়তা করা, আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি খুব দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।

আলিপভ আরও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বৈঠক প্রমাণ করেছে যে, মস্কো এবং নয়াদিল্লির ভবিষ্যতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য এজেন্ডা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পুতিন গত ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাৎ করেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন নিজেই প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে যে, শুধু রাশিয়া ও ভারত নয়, ব্রিকসের সব সদস্য দেশই বিশ্বব্যাপী বিষয়ে আরও জোরালো কণ্ঠস্বর প্রত্যাশা করে—সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে থাকতে চায়, আলোচনার জন্য একটি সুষ্ঠু বিকল্প প্ল্যাটফর্ম পেতে চায় যা উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। আর আমরা ভারত এবং অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে এর পক্ষেই দাঁড়িয়েছি।

সূত্র: এনডিটিভি

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536