১৫ মিনিটেরও কম সময়ের একটি ভাষণ রীতিমতো হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। শেখানো বুলি আর নিজের অর্জন নয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্মম সত্য আর বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার দ্বিচারিতা নিয়ে কথা বলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গোটা বিশ্ব যখন প্রত্যাশা করছিল নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ধসের কথা বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকে সান্ত্বনা আর সহায়তার আর্জি জানাবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তখন সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা এড়িয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তুলোধূনো করলেন আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থাকে। এ স্পষ্টবাদীতায় এতটাই মুগ্ধ বিশ্ব, যে তা নিয়ে এখনও চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ।
দুর্নীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নেপালের তরুণ প্রজন্ম ক্ষমতায় বসিয়েছিল এই বালেন শাহ-কে। স্পষ্টবাদী হিসেবেই তার খ্যাতি দেশজোড়া। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতাদের যাবতীয় আলাপ যখন এআই, বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক নীতি, প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে, তখন দরিদ্র এক দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও প্রচণ্ড গভীর এক চয়ন করেছেন বালেন্দ্র। আফসোস করে বলেন, দরিদ্র দেশগুলো যখন সার বা জ্বালানির সংকটে ভোগে, তখন কত দ্রুত বিশ্বে যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে যায়।
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সময়মতো পৌঁছায়। রাইফেল ও গোলাবারুদ সীমান্ত পার হয়, প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে, ডেডলাইনের নড়চড় হয় না। কিন্তু নেপালের একজন কৃষক তার প্রয়োজনের সময় বাজার দরে সার বা জ্বালানি কিনতে পারে না। এমনই এক একটি ত্রুটিহীন বিশ্ব গড়ে তুলেছি আমরা।
বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম নির্গমন করার পরেও নেপালের মতো রাষ্ট্রকে কেন বছরের পর বছর চড়া মূল্য চুকাতে হচ্ছে, ধনী দেশগুলোর উদ্দেশে সরাসরি এই প্রশ্ন ছুঁড়ে করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ বলেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্ব গড়ে তুলেছি যেখানে যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহনের ব্যবস্থা একেবারে নিখুঁত, কিন্তু খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা ভাঙাচোরা। আর এটা শুধু নেপালের একার দুর্ভাগ্য নয়। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা আমাদের অঞ্চলের যেকোনো দেশকে জিজ্ঞাসা করুন। তারা সবাই একই কথা বলবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার, অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী নই। বারবার এমন যুদ্ধের শিকার হয়েছি যা আমরা শুরু করিনি।’
তবে সবচেয়ে তাজ্জব করা ব্যাপার, জাতিসংঘে প্রথাগত ধারার বাইরের সোজাসাপ্টা উপস্থাপন ভঙ্গি, স্ক্রিপ্ট বা প্রমটার ছাড়াই মেদহীন ঝড়ঝড়ে বক্তব্যে- গোটা বিশ্ব যখন মুগ্ধ। তখন পশ্চিমা প্রথম সারির গণমাধ্যমের নজর কেবলই বালেন্দ্র শাহ’র কালো চশমার ওপর।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

