শিশু রিফাত অপহরণ-হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

রোববার,

২১ জুন ২০২৬,

৭ আষাঢ় ১৪৩৩

রোববার,

২১ জুন ২০২৬,

৭ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

বগুড়ায়

শিশু রিফাত অপহরণ-হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ২১ জুন ২০২৬

Google News
শিশু রিফাত অপহরণ-হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুরে শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে হত্যা এবং মরদেহ গুমের মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। তাঁদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় নাবালক ছিল এমন আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের দণ্ডিত করেছেন।

ঘটনার সময় শিশু ছিল এমন পাঁচ আসামি সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। তাদেরকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই রিফাতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিতজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা যান। ফলে তাঁর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ তাঁর কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এনামুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলেই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, রায়ে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিটি ধারায় অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, দ্রুত রায় বাস্তবায়ন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের