শুক্রবার,

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শুক্রবার,

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

একসময় বাঁশ মানেই ছিল গ্রামের ঘরবাড়ির বেড়া, চালের কাঠামো, কুলা-ডালা কিংবা মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচিত বাঁশের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে আরও অনেক ক্ষেত্রে।

আসবাব থেকে নির্মাণসামগ্রী, হস্তশিল্প থেকে খাবার—বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বাঁশ এখন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপকরণ হিসেবেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বাঁশের এই বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম ওয়ার্ল্ড বাম্বু কংগ্রেসে দিনটিকে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দ্রুত বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ
বাঁশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুত বৃদ্ধি। অনেক কাঠজাত উদ্ভিদের তুলনায় এটি কম সময়ে পরিণত হতে পারে। এ কারণে নবায়নযোগ্য কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ হচ্ছে। পরিবেশের জন্যও বাঁশের গুরুত্ব রয়েছে।

এর শিকড় মাটিকে ধরে রাখতে সহায়তা করে, ফলে মাটির ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বাঁশের ঝাড় বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবেও কাজ করে।

ঘর থেকে আধুনিক স্থাপনায়
বাংলার গ্রামাঞ্চলে বাঁশের ব্যবহার বহু পুরোনো। ঘরের বেড়া, মাচা, সেতু, ঝুড়ি, ডালা, কুলা থেকে শুরু করে নানা কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে বর্তমানে বাঁশের ব্যবহার ঐতিহ্যবাহী এসব কাজেই সীমাবদ্ধ নেই।

আধুনিক নকশার আসবাব, ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেও বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বাঁশ দিয়ে তৈরি নানা সামগ্রীও জনপ্রিয় হচ্ছে।

খাবারেও বাঁশ
বাঁশের ব্যবহার শুধু কাঠামো বা হস্তশিল্পে নয়, খাবারেও রয়েছে। বাঁশের কচি কঞ্চি বা বাঁশের কোড়ল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন রান্নায় এটি ব্যবহার করা হয় এবং এশিয়ার কিছু দেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে এর প্রচলন দীর্ঘদিনের।

জীবিকারও উৎস
বাঁশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় একটি হস্তশিল্পভিত্তিক অর্থনীতি। বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, আসবাব, শোপিস ও ব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রি করে বহু কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব বাঁশ সংস্থা বাঁশকে পরিবেশ, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব বাঁশ দিবসের প্রতিপাদ্যও বাঁশকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার, নির্মাণ ও সমৃদ্ধির ধারণাকে সামনে এনেছে।

ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব উপকরণ?
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের কারণে টেকসই বিকল্প উপকরণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই জায়গায় দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং নানা কাজে ব্যবহারযোগ্য বাঁশকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।

অর্থাৎ, যে বাঁশ একসময় গ্রামের উঠান কিংবা ঘরের বেড়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেই বাঁশই এখন পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, আধুনিক পণ্য ও সবুজ অর্থনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে। তাই বিশ্ব বাঁশ দিবস কেবল একটি উদ্ভিদকে মনে করার দিন নয়; প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনাকেও সামনে আনার দিন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536