পিরিয়ড আসার কয়েক দিন আগে অনেক নারীরই হঠাৎ ক্ষুধা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে মিষ্টি বা চিনি-জাতীয় খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে হতে পারে।
অনেকেই এটিকে শুধু খাবারের প্রতি দুর্বলতা মনে করেন। তবে এর পেছনে শরীরের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন কাজ করতে পারে।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জির বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিরিয়ডের আগে এমন পরিবর্তন প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বা পিএমএসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এ সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে মেজাজ, ক্ষুধা, ঘুম ও হজমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
পিএমএসের সময় কারও ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে, আবার কারও খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগ, মেজাজের পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ফলে প্রতি মাসে একই সময়ে এসব পরিবর্তন হলে তা মাসিক চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটি খেয়াল করা গুরুত্বপূর্ণ।
অঞ্জলি মুখার্জি বলেন, পিরিয়ডের আগে উদ্বেগ বা অস্থিরতা দেখা দিলে এটিকে নিজের স্বভাবের সমস্যা হিসেবে না দেখে মাসিক চক্রের সাময়িক পরিবর্তন হিসেবে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।
এতে পরিস্থিতি সামলানো কিছুটা সহজ হতে পারে।এই সময়ে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদের মতে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রাখলে পিএমএসের সময়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। পানি ছাড়াও লবণযুক্ত স্যুপের মতো তরল খাবার শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।
পিরিয়ডের আগে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বাড়লে না খেয়ে থাকার চেষ্টা না করে নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পরে হঠাৎ বেশি ক্ষুধা লাগতে পারে এবং তখন মিষ্টি বা অন্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
প্রতি মাসে পিরিয়ডের আগে একই ধরনের ক্ষুধা, মেজাজের পরিবর্তন বা ঘুমের সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটিও লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। নিজের শরীরের এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকলে খাবার ও দৈনন্দিন রুটিনও সে অনুযায়ী সামলানো সহজ হয়।
পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জির জানান, লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে পুষ্টি জোগানো।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

