‘আতরের গন্ধ’ নাকে আসার পর স্কুলে অচেতন ২১ শিক্ষার্থী

সোমবার,

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সোমবার,

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

‘আতরের গন্ধ’ নাকে আসার পর স্কুলে অচেতন ২১ শিক্ষার্থী

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
‘আতরের গন্ধ’ নাকে আসার পর স্কুলে অচেতন ২১ শিক্ষার্থী

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ দিনের ব্যবধানে ফের ২১ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় চলাকলে (দুপুর ১২ ঘটিকায়) হঠাৎ করেই গত ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার মতো একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থতা বোধ করতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, ক্লাস চলাকালে অনেক শিক্ষার্থীর শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও শরীরের নানা অংশে অস্থিরতা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষেই ঢলে পড়ে অচেতন হয়ে যায়।‌

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র দাস বলেন, সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস থেকে এ অসুস্থতা পরিলক্ষিত হয়। পরে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণী ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ শিক্ষক আরও বলেন, সপ্তম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করার সময় আতরের গন্ধ অনুভব করে। পরে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে।

ঘটনার পর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় স্থানীয়দের সাহায্যে দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। 

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করার পর অধিকাংশের চেতনা ফিরলেও এক নারী শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। একই বিদ্যালয়ে দুই দফা এই ধরনের ঘটনা ঘটায় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

অনেক অভিভাবকই ঘটনাটিকে গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে ধারণা করলেও, বিদ্যালয়ের পরিবেশ বা খাবারের বিষক্রিয়া বা স্থানীয় কোনো পরিবেশগত সমস্যা আছে কি না—তা নিয়ে জোর দাবি তুলেছেন।ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন,  প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি এক ধরণের ‘মাস হিস্টোরিয়া’ বা ‘গণ-মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা’ হতে পারে, যেখানে একজন অসুস্থ হলে ভীতি ও আতঙ্কের কারণে আশেপাশে থাকা অন্যান্যরাও মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়ে একই রকম শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ করে।

হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল বিদ্যালয় পরিদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে অন্যান্য অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থী এক ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। পরদিন উপজেলা প্রশাসন ঘটনা তদন্ত করে‌ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ঘটেছে বলে জানায়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের