শনিবার,

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শনিবার,

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে জাতীয় সংলাপ করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১৫ মার্চ ২০২৫

Google News
বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে জাতীয় সংলাপ করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ

বাংলাদেশের শান্তি ও সংলাপ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, কারণ এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে।

শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গুতেরেস বলেন, ‘বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, জাতিসংঘ শান্তি, জাতীয় সংলাপ, আস্থা ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরে আমি বিশেষভাবে আনন্দিত। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির এক নতুন ভবিষ্যতের আশায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য, রাজনৈতিক দল, তরুণ সমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন এবং জনগণের সংস্কার ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, রমজান মাস মানবতার সর্বজনীন মূল্যবোধ-সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও উদারতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর বাংলাদেশ শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এই মূল্যবোধগুলোর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুতেরেস বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাই। এটি আপনাদের স্থায়ী মানবিক চেতনার প্রমাণ। বিগত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ, সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা ১০ লক্ষাধিক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সংহতি ও মানবিক মর্যাদার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যদিও এটি সামাজিক, পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব যেন এই উদারতাকে স্বাভাবিক বলে ধরে না নেয়।’

‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাবো, যাতে তারা আরও দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং শরণার্থী ও তাদের স্বাগতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। কিন্তু গতকাল কক্সবাজারে আমি যেমন বলেছি, আমরা এক গভীর মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।ঘোষিত তহবিল সংকোচনের কারণে ২০২৫ সালে ২০২৪ সালের তুলনায় মানবিক সহায়তার জন্য মাত্র ৪০ শতাংশ অর্থ পাওয়া যেতে পারে, যা ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে, বিশেষ করে খাদ্য সহায়তা ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এটি একটি চূড়ান্ত বিপর্যয় হবে। মানুষ কষ্ট পাবে, মানুষ মারা যাবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আবেদন জানাচ্ছি, যাতে আমরা এই ট্র্যাজেডি এড়াতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফিরতে পারে।’

গুতেরেস বলেন, ‘আমি জানি, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমান এবং মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের পরিকল্পনা করছে। আমরা জানি, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা বাড়ছে, যা অভ্যন্তরীণভাবে এবং সীমান্তের ওপারে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মিয়ানমারের সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং সম্প্রদায়গত উত্তেজনা ও সহিংসতার আরও উসকানি রোধ করে—যাতে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই পবিত্র রমজান মাসে যখন আমরা একত্রিত হয়েছি, তখন সংহতি ও অভিন্ন মানবতার প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই চেতনায়, আমরা বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকব, আপনাদের সামনে আসা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মোকাবিলায় আপনাদের সহায়তা করব। আমি আবারও বলতে চাই, আপনাদের সঙ্গে এই মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি। এ রমজান সবার জন্য শান্তি, আশীর্বাদ এবং নতুন আশার বার্তা বয়ে আনুক।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536