দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দুই পক্ষের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে ২৮ বছর পর ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক হারালেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) সাময়িকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর শুক্রবার দুই পক্ষের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে বিদ্রোহী পক্ষকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে দুই পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত রাখে। পাশাপাশি আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়।
শুক্রবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তিনটি নাম ও বিকল্প প্রতীক হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড় ও ব্যাটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন তাদের প্রথম পছন্দের নাম ও প্রতীকের সমন্বয় অনুযায়ী নতুন পরিচয় নির্ধারণ করে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী পক্ষের জন্য ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই ব্যবস্থা আসন্ন উপনির্বাচনগুলোর জন্য প্রযোজ্য এবং মূল দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি দলটির প্রধান নির্বাচনী পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত সেই প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে দলটির মমতা-নেতৃত্বাধীন অংশকে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

