নির্বাচনের আগে সক্রিয় অস্ত্রের কালোবাজার; বেশিরভাগই আসছে সীমান্ত পেরিয়ে

বুধবার,

২১ জানুয়ারি ২০২৬,

৮ মাঘ ১৪৩২

বুধবার,

২১ জানুয়ারি ২০২৬,

৮ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

নির্বাচনের আগে সক্রিয় অস্ত্রের কালোবাজার; বেশিরভাগই আসছে সীমান্ত পেরিয়ে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৩৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:৩৮, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
নির্বাচনের আগে সক্রিয় অস্ত্রের কালোবাজার; বেশিরভাগই আসছে সীমান্ত পেরিয়ে

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। সন্ত্রাসীদের হাতে মিলছে বোমা, দেশিয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র। দেশের মধ্যে আসা বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্রই এসেছে সীমান্ত পার হয়ে। কিভাবে থামানো যাবে এসব অস্ত্রের ব্যবহার সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলছে বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের মৌসুম এলেই যেন সক্রিয় হয়ে ওঠে অস্ত্রের কালোবাজার। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই এখন অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে ককটেল, বোমা, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র। কোথাও পরিত্যক্ত বাড়িতে, কোথাও খালের ধারে, আবার কোথাও রাজনৈতিক কর্মীদের আস্তানায় মিলছে এসব অস্ত্র।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব থানার অস্ত্র লুট করা হয়েছে এগুলোর সবই যে সরকারি ছিল তা নয়। অনেক অস্ত্রই ছিল যেগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে আনা। অবৈধ অস্ত্রের অভিযানগুলোকে ম্যাক্সিমাম প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে এবং জিরো টলারেন্স।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই অস্ত্র মজুত করছে। তবে সাধারণ মানুষের ভয় ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে।

একজন বলেন, ‘প্রশাসনের দিক থেকে নিরাপদ বোধ করছি না। কারণ বাংলাদেশে তো খুন, হত্যা, চাঁদাবাজি অহরহ হচ্ছেই।’

আরেকজন বলেন, ‘অস্থির পরিবেশ দেখলে ভোট দিতে যাব না। যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে ভোট দিতে যাব।’

অস্ত্র নিয়ে যারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের একটি বড় অংশের জামিন হয়েছে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে। এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র মামলায় ২ হাজার ৯০০ এর বেশি যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা বিভিন্ন সময়ে জামিন পেয়েছেন। পূর্ণ মেয়াদে সাজা ভোগ করেছেন তাদের তুলনায় জামিন নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়েছেন, বিভিন্ন মামলায় কারাগারে এসেছেন তারা যদি জামিন পান তাহলে তো শঙ্কার বিষয় আছেই।’

নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সহিংসতা, ভয়ভীতি আর অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি থেকেই যাবে—এমন আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম আখন্দ বলেন, যদিও হারানো বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক এখনো বাইরে আছে। শুধু এটা না, শুনেছি আমার সীমান্ত দিয়েও এখন অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে। বিভিন্ন জায়গায় এক্সপ্লোসিভ পাওয়া যাচ্ছে। এটাও আগামী নির্বাচনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ একটা অবস্থা।’

নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিঃসন্দেহে বড় উদ্বেগের কারণ। ঘোষণার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপই পারে জনমনে আস্থা ফেরাতে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের