অবশেষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি

সোমবার,

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৭ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৭ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

অবশেষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৪১, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
অবশেষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি

অবশেষে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। 

খসড়া অধ্যাদেশের প্রস্তাবের মতো সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত না করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হল।

একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এ কলেজগুলোকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে’ সরকার পরিবর্তনের পর সে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তখন এ কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করে।

খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, কলেজগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে। কিন্তু প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই কাঠামোতে তাদের পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।

তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে 'অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে' নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনে নামে।

অবশেষে এ বছর ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হলো।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের