চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আকসু প্রিফেকচারের বাইছেন কাউন্টিতে জিরকন বালুর একটি বিশাল মজুদ আবিষ্কৃত হয়েছে। শনিবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। মজুদটির নিশ্চিত সম্পদের পরিমাণ ৪০টিরও বেশি বৃহৎ জিরকন খনিজক্ষেত্রের সমপর্যায়ের। পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাফনিয়ামের মজুদও অতিবৃহৎ পর্যায়ের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবিষ্কারটি জিরকনের সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের জন্য বড় অগ্রগতি। দেশটিতে এ খনিজের প্রাকৃতিক মজুদ তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্বের মোট জিরকন মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। অন্যদিকে, চীনে রয়েছে ১ শতাংশেরও কম।
জিরকন একটি প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। রাসায়নিকভাবে এটি জিরকোনিয়াম সিলিকেট নামে পরিচিত যা, ভূ-ত্বকে পাওয়া অন্যতম প্রাচীন এবং শক্ত একটি খনিজ। এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি, ক্ষয় প্রতিরোধক্ষমতা চমৎকার এবং নিউট্রন শোষণের ক্ষমতা কম। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে পারমাণবিক চুল্লি এবং মহাকাশ ও বিমানশিল্পে উচ্চ তাপসহনশীল সংকর ধাতু তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সিনচিয়াংয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী চু ইলিন বলেন, ‘প্রায় দুই দশকের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের ফল এ আবিষ্কার।’
২০০৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভূতত্ত্ববিদেরা থিয়ানশান অঞ্চলের পুরনো ভূ-রাসায়নিক জরিপের তথ্য নতুন করে বিশ্লেষণ করেন। এসময় জিরকনের উপস্থিতির একাধিক ইঙ্গিত এবং অনুসন্ধানের সম্ভাবনাময় স্থান চিহ্নিত করা হয়।
চু জানান, ২০২৪ সাল থেকে আঞ্চলিক সরকার জিরকন অনুসন্ধানের পাঁচটি প্রকল্পে ৩৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ দেয়। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর এ সাফল্য এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আকসুর সম্ভাবনাময় জিরকন অঞ্চলগুলোতে অনুসন্ধান জোরদার করা হবে। প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো, খনিজ সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা জোরদার এবং অনুসন্ধান প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে আরও অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।’
চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬-৩০) প্রথম বছরে দেশটির সর্বশেষ খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রমে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর একটি এ আবিষ্কার।
দেশের খনিজ সম্পদের আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া এবং সম্পদ নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রাকৃতিকসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চলাকালে নতুন করে সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রমও শুরু করেছে।
এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ও নিম্নমানের খনিজ সম্পদের পাশাপাশি কৌশলগত খনিজ সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগে যেসব খনিজ উত্তোলন করা কঠিন ছিল, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সেগুলোর কিছু এখন অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

