সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন সর্বমিত্র চাকমা

সোমবার,

২৬ জানুয়ারি ২০২৬,

১৩ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

২৬ জানুয়ারি ২০২৬,

১৩ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানো

সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন সর্বমিত্র চাকমা 

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
সমালোচনার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন সর্বমিত্র চাকমা 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ও জিমনেসিয়ামে ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা কিশোর ও তরুণদের লাঠি হাতে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন–এমন দুটি ভিডিও পরপর দুদিন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার মুখে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সর্বমিত্র।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা বেশ কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কান ধরিয়ে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমার এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা হয়।

আজ সোমবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র চাকমার হাতে রয়েছে লাঠি। তিনি লাঠি হাতে জিমনেসিয়ামে এদিক সেদিক হাঁটছেন ও কিশোর–তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কানধরে ওঠবসের সংখ্যা গুনছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে কিশোর লাঠি হাতে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

আজকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা

তিনি বলেন, ‘উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কারও প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে ,আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের