বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চলতি চাষাবাদ মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক।
উপজেলার চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া এবং সদর ইউনিয়নের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউরিয়া, ডিএপি এবং টিএসপিসহ সব ধরনের সারের জন্য তারা হন্যে হয়ে ঘুরছেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়েও অনেক সময় সার মিলছে না। কৃষকদের অভিযোগ, সার মজুদ এবং গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে।
নয়াপাড়ার কৃষক নুরুল আবচার বলেন, পাহাড়ি বলে তাদেরকে সব জায়গায় অবহেলা করা হয়। এমনিতেই এখানে সেচের সমস্যা, তার ওপর চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। এভাবে চললে চাষাবাদ কীভাবে হবে?
তারাবুনিয়া গ্রামের চাষী আকাশ বলেন, “আঁরা চাষবাসত কোনায়াত্তুন সাহায্য ন ফায়র। স্যার অক্কল নাই। তারা সংকট বানাই রাইক্ষ্যে। মজুদ গরি রাইক্ষ্যে। আর আঁরার ক্ষতি গরর।”
এদিকে সারের পাশাপাশি সেচ সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে আলীকদমের পাহাড়ি এলাকায়। পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় এবং সেচ পাম্পের সীমাবদ্ধতায় অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ছাড়া দুর্গম পাহাড় থেকে উৎপাদিত ফসল বাজারে আনতে পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে নানামুখী সমস্যায় বড় ধরনের সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষি।
বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু নাঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে কোনো ডিলার সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখলে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, আলিকদমের কৃষির সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। সার ও পানির সংকট কমাতে হবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারি ও বেসরকারি দুই পর্যায়েই। অন্যথায় এ অঞ্চলের কৃষি হুমকির মুখে পড়বে।

