হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়া ১২০ মিনিটের মহানাটক, মেসির রেকর্ড আর কেপ ভার্দের রূপকথাকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা। মঞ্চটা যেন আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল মহাকাব্যের জন্য। ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রস্ফুটিত হলো সেই চিরচেনা জাদু। ম্যাচের ২৯ মিনিটেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে বল জালে জড়ালেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি! আর এই জাদুকরী গোলের সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখলেন এলএমটেন।
বিশ্বকাপে এটি মেসির রেকর্ড ২০তম গোল! শুধু তাই নয়, নকআউট পর্বে গোল এবং অ্যাসিস্টের হিসাব মিলিয়ে ফুটবল সম্রাট পেলেকে ছাড়িয়ে গোল অবদানে এখন বিশ্ব ফুটবলের এককভাবে নাম্বার ওয়ান লিওনেল মেসি।
তবে মেসির রেকর্ডের রাতে সহজে দমে যায়নি লড়াকু কেপ ভার্দেও। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণে গোল শোধ করে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১ সমতায় শেষ করে তারা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
নাটকের আসল অঙ্কটা যেন তোলা ছিল এখানেই! অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতে না হতেই আবারও জ্বলে ওঠে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত এক আক্রমণে লিসান্দ্র মার্টিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
কিন্তু রোমাঞ্চের তখনও বাকি ছিল। আর্জেন্টিনার লিড নেয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি কেপ ভার্দে। ম্যাচের ঠিক ১০২ মিনিটে এক অবিশ্বাস্য শট থেকে গোল শোধ করে আবারও ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরায় কেপ ভার্দের ক্যাব্রাল।
সবাই যখন টাইব্রেকারের হিসাব কষতে শুরু করেছেন, সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ১১১ মিনিটে মেসির ক্রসে রোমেরোর হেডে কেপ ভার্দের জালে বল জড়িয়ে জয় নিশ্চিত হয় স্কালোনির শিষ্যদের।
শেষ মুহূর্তের মরিয়া আক্রমণেও কেপ ভার্দে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা মিশরীয় বাধা মোকাবিলা করবে। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মিশরে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে নতুন ইতিহাস লিখেছে আফ্রিকার দলটি, আর এবার সেই স্বপ্নযাত্রার সামনে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

