যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ৫ জুলাইয়ের ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের ম্যাচটি চরম গরমের কারণে পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর আর্দ্রতাসহ অনুভূত তাপমাত্রা (হিট ইনডেক্স) ১১০ থেকে ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৩.৩ থেকে ৪৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে গরম আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, ম্যাচ কর্মকর্তা ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শকের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফিফার বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার যা তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাস ও সূর্যালোকের সম্মিলিত প্রভাব বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়, তা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৯.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার বেশি হলে ম্যাচ স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এর আগেও তীব্র গরমের প্রভাব দেখা গেছে ফ্রান্সের ম্যাচে।
সুইডেনের বিপক্ষে প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় খেলতে নেমে ফরাসি খেলোয়াড়রা মাঠে স্প্রিংকলারের সাহায্যে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। এছাড়া গরমের কারণে দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলের জন্য বাধ্যতামূলক কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়।
চরম গরমের কারণে দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্যালারিতে অ্যালকোহল পান করলে পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ কারণে আয়োজক শহর ও স্টেডিয়ামগুলোতে অতিরিক্ত ছায়াযুক্ত স্থান এবং শরীর ঠান্ডা রাখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। একই ধরনের ব্যবস্থা থাকবে ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকাগুলোতেও।
তবে এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচের সূচিতে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

