সোমবার,

২৬ অক্টোবর ২০২৬,

১১ কার্তিক ১৪৩৩

সোমবার,

২৬ অক্টোবর ২০২৬,

১১ কার্তিক ১৪৩৩

Radio Today News

‘অর্ণবে’ পরিণত গভীর নিম্নচাপ, মধ্যরাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:২০, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:২২, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

Google News
‘অর্ণবে’ পরিণত গভীর নিম্নচাপ, মধ্যরাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। আজ সোমবার আবহাওয়ার ৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম। এটির অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,  ভারতের মহাকাশভিত্তিক উপগ্রহ পর্যবেক্ষণে বঙ্গোপসাগরের ওপর ঘূর্ণায়মান ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর যে ছবি ধারণ করা হয়েছে, সেটি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ অন্ধ্রপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার জন্য ঘূর্ণিঝড়ের রেড অ্যালার্টজারি করেছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি বুধবার দুপুরের মধ্যে বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল—বিশেষ করে ইয়ানামের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। উপকূলে আঘাত হানার সময় অর্ণবের একটানা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার হতে পারে, যা দমকা হাওয়া আকারে সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এটি সকালে ওড়িশার গোপালপুর থেকে আনুমানিক ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগে, গত ছয় ঘণ্টায় এটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছিল।

দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির ঝরতে পারে আগামী পাঁচদিন 

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর প্রভাবে আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধ্বার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।

এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের