মঙ্গলবার,

১৮ মে ২০২১

মরদেহ পোড়ানো নিয়ে উদ্বিগ্ন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ১৭:৩২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মরদেহ পোড়ানো নিয়ে উদ্বিগ্ন শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

করোনায় মারা যাওয়া একটি মরদেহ শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর শ্মশানে যাওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কায় করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া অনেক মুসলিমকে এ পর্যন্ত দাফনের বদলে আগুনো পোড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ২০ দিন বয়সী শিশুকে পরিবারের অনিচ্ছায় আগুনে পোড়ানো হয়। এ নিয়ে এখন উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে। সেইসঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

এদিকে করোনায় মারা যাওয়া মুসলিমদের আগুনে পোড়ানোর বদলে মালদ্বীপের দাফন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। 

গত ৯ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার রাজধানীর উপশহরে বোরেলার শশ্মানে ২০ দিন বয়সী ওই শিশুকে বাধ্যতামূলক আগুনে পোড়ানো হয়। সেখানে ইতোমধ্যে ১৫ জন মুসলিমের মরদেহ আগুনে পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু ইসলামে আগুনে মরদেহ পোড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও) করোনাবিষয়ক নির্দেশনায় অনেক আগেই বলে দেয় যে, মরদের দাফন ও আগুনে পোড়ানো উভয়টিই করা যাবে। এরপর শ্রীলঙ্কা সরকার করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক আগুনে পোড়ানোর নির্দেশ দেয়। 

সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর দেশ শ্রীলঙ্কায় করোনায় মারা যাওয়া সবাইকে বাধ্যতামূলক আগুনে পোড়ানোর আইন করা হয়, যা মুসলিমদের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটবায়া রাজাপাকসা নেতৃত্বাধীন সরকার প্রণীত এই আইনকে বৈষম্যমূলক আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠী।

গত ২২ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি কোনো সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে বাধ্যতামূলক শবদাহ নীতি পুনর্বিবেচনা করে আইন করে। এদিকে মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা দেশের উচ্চ আদালতে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে দাফন অধিকার মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে আবেদন জানায়। কিন্তু ১ ডিসেম্বর আদালত তা খারিজ করে দেয়।

মৃত শিশু শেখের বাবা এমএফএম ফাহিম সন্তানের দাফনকার্য দেখতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে, এমন স্থানে আমি যেতে পারব না যেখানে তারা আমার শিশুকে আগুনে পোড়াচ্ছে। আমার বন্ধু ও পরিবার কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় যে, তারা কীভাবে শবদাহ করছে, অথচ বাবা-মায়ের কেউ নথিপত্রে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেনি? জবাবে কর্তৃপক্ষ জানায়, কারণ শিশুটি করোনায় আক্রান্ত। তাই তার শবদাহ করা যাবে। অবশ্য এর কোনো সদুত্তর তাদের কাছে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের আগুনে পোড়ানোর বদলে বাধ্যতামূলক দাফনের অনুমতি দিলে তা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক হত। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই অসহনীয়।’

করোনায় মারা যাওয়াদের মরদেহ বাধ্যতামূলক পোড়ানোর এই আইন শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে চরমভাবে ক্রুদ্ধ করছে। ন্যাশনাল ইউনিটি এলিয়েন্সের (এনইউএ) জ্যেষ্ঠ নেতা আজাথি সেলি বলেন, ‘এ আইনের মাধ্যমে সরকার দেশেল সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অনুভূতিতে আঘাত করছে। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা ২০ দিনের শিশুকেও ছাড় দেয়নি। বরং পরিবারের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়ে তাদের কাছে শবদাহের খরচও দাবি করেছে।’

এ পরিস্থিতিতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের সাবেক মেয়র বিশ্বনেতাদের শ্রীলঙ্কা সরকারের ওপর চাপ তৈরির আহ্বানা জানিয়েছেন, যেন তারা দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

ইসলাম ধর্ম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মাদ শাহিম আলী সাইদ এক বিবৃতিতে বলেন, শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তাদের সহয়তায় এগিয়ে আসা মালদ্বীপের কর্তব্য। তবে কোনো মুসলিমের মরদেহ পোড়ানো যাবে না।

সম্পর্কিত বিষয়: