ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পথচলা শুরু হচ্ছে আজ। ৩০০টির মধ্যে ২৯৭টি সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন প্রথম অধিবেশনে। আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ছাড়াই নির্বাচন করা হবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। অধিবেশনে ভাষণ দিবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এবারের সংসদে তারেক রহমান, প্রথমবার সংসদ সদস্য, প্রথমবার সংসদ নেতা এবং প্রথমবারই প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব প্রস্তুতি শেষ, বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আর এবারের সংসদ হবে প্রাণবন্ত।
৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতির নতুন বিরোধ ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে এই অধিবেশনে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যও প্রথম অধিবেশনে নির্ধারণ হবে। প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন।
আজকের অধিবেশনের দলীয় কৌশল নির্ধারণে গতকাল বুধবার সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা আলাদা সংসদীয় দলের বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি– শুরুর বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন। গতকালের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) সহকারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান অনুযায়ী বিরোধীদলীয় সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন চান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতিসহ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে মূলত মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এ দুটি পদে ক্ষমতাসীন দল থেকেই সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএনপি।
জুলাই সনদেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়। তবে গতকাল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠকের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ ওই বছরের ৫ জুন শুরু হওয়া সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৯ কার্যদিবস চলার পরে শেষ হয়েছিল ৩ জুলাই রাতে।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা সংসদীয় রাজনীতির দুয়ার উন্মুক্ত হয়।
২১২ আসন নিয়ে বিজয় অর্জন করা বিএনপি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। ৬৮টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে থাকছে জামায়াত এনসিপি জোট। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত করা হয়।
কার্যবিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার জন্য বিএনপি তাদের সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ নির্বাচিত করেছেন। অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন হওয়ায় দুই দিনব্যাপী কর্মশালাও করেছে বিএনপি। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হয়েছেন এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

