সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি, পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

মঙ্গলবার,

১০ মার্চ ২০২৬,

২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১০ মার্চ ২০২৬,

২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি, পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১০ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৯, ১০ মার্চ ২০২৬

Google News
সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি, পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিভ্রান্তি এড়াতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এ পদে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

বিশেষ করে, চিঠিতে উল্লিখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার অংশে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের বিষয়ে জামায়াত জানায়, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে জানানো হয় যে, ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী।

কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধন করার নীতিতে দল বিশ্বাস করে এবং এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, মূলত চাকরির সুপারিশের কথা বলে জামায়াত আমিরের কাছ থেকে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন মাহমুদুল হাসান। বিষয়টি ধরা পড়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’র বিষয়ে জামায়াত আমিরের বিন্দুমাত্র সম্মতি ছিল না।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের