আজ মহাকবি কায়কোবাদের ৭২তম মৃত্যুবাষির্কী।
মহাকবি কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামের কায়কোবাদ জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরায়শী। ঢাকার পোগোজ এবং সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়াশোনা করতেন কায়কোবাদ। এরপর ঢাকা মাদরাসায় ভর্তি হয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। কিন্তু তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষা না দিয়ে পোস্ট মাস্টারের চাকরি নিয়ে নিজ গ্রাম আগলা পূর্বপাড়ায় ফিরে আসেন। এখানে তিনি অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত কাজ করেন। বাল্যকাল থেকেই কবিতায় তার পারদর্শিতা চোখে পড়ে। কায়কোবাদ কবির সাহিত্যিক নাম হলেও তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাযেম আল কোরেশী। ১৯৫১ সালের ২১জুলাই কবি মৃত্যুবরণ করেন।
অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তার প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে, কুসুম কানন (১৮৭৩), অশ্রুমালা (১৮৯৫), মহাশ্মশান (১৯০৪), শিব-মন্দির (১৯২২), অমিয়ধারা (১৯২৩), শ্মশান-ভস্ম (১৯২৪) ও মহরম শরীফ (১৯৩২)। কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল (১৯৭০), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), মন্দাকিনী-ধারা (১৯৭১) ও গাছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রকাশিত হয়। সবশেষ বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।
কায়কোবাদের মহাশ্মশান হচ্ছে মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এই কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তার শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবির খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া তার গীতিকবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
তবে নিজ এলাকায় অবহেলিত কায়কোবাদ। দুই একটি সংগঠনই শুধু স্মরণে রেখেছেন মহাকবিকে। এরমধ্যে মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ ও মহাকবি কায়কোবাদ মুক্ত স্কাউট অন্যতম। মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার আয়োজন ও তার সমাধিস্থল ঢাকার আজিমপুর পুরানো কবরস্থানে জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।
রেডিওটুডে/এমএমএইচ

