নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশেষ করে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তার একান্ত সাক্ষাতের পর প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেস কি ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমীকরণে যেতে পারে।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও সহযোগিতামূলক, কখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে এমন বৈঠকে মমতার সরাসরি উপস্থিতি খুব বেশি দেখা না গেলেও এবার তিনি নিজেই অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার বৈঠক হয়। এরপর বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে সোনিয়া-মমতার আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার প্রশ্নে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় বাড়তে পারে। তবে সেটি দলীয় একীভূতকরণ পর্যন্ত যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এমন সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখার পক্ষেই অধিকাংশ নেতা-কর্মী অবস্থান করছেন।
নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চললেও কংগ্রেস বা তৃণমূল কোনো দলই এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সমঝোতা বা সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠক শেষ পর্যন্ত কী ফল বয়ে আনে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

