তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে ফেডের সুদহার বাড়ানোর শঙ্কা

শনিবার,

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শনিবার,

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে ফেডের সুদহার বাড়ানোর শঙ্কা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে ফেডের সুদহার বাড়ানোর শঙ্কা

তেলের চড়া দাম, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্য ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) শিগগিরই সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। 

শুক্রবারের এই পরিস্থিতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজার, বন্ড ও জ্বালানি বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। 

এরই মধ্যে শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে এই হার মিলে গেলেও এটি ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।

এর একদিন আগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোজোনে ঋণের খরচ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। 

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানের পর গত কয়েক দিনে ওই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ক্রেসেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জ্যাক অ্যাবলিন বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রত্যাশা অনুযায়ীই এসেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অনেকটাই ধরে নিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহে ফেড সুদের হার বাড়াবে।’

দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার তুলনামূলকভাবে উচ্চ থাকলেও টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো ভালো অবস্থানে ছিল।

অ্যাবলিন পরিস্থিতিটিকে বর্ণনা করে বলেন, ‘এটি এমন একটি পরিস্থিতিতে সামান্য স্বস্তি, যেখানে সার্বিক চিত্র খুব একটা সুখকর নয়।’

ইউরোপের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অস্থির একটি সপ্তাহের পর প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের উভয় বাজারই ০ দশমিক ৮ শতাংশ করে বেড়ে দিন শেষ করে।

তবে ব্রিফিং ডটকমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহের বাজার ধসের মধ্য দিয়েই সম্ভবত সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে বাজার ইতোমধ্যেই বিবেচনায় নিয়ে ফেলেছে।’

সুদের হার বাড়ানো হলে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রচারণা চালিয়ে আসছেন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সুদের হার কমানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন।

ইটোরোর মার্কিন বিনিয়োগ বিশ্লেষক ব্রেট কেনওয়েল বলেন, ‘শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীল থাকায় এবং মাসিক মূল মূল্যস্ফীতি থাকায় আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানো এড়ানো ফেডের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।’

তিনি বলেন, বাজারে এখন সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ ধরে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের চমকে না দিয়েই নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো এমন উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে উদ্বেগজনক। 

মূল্যস্ফীতির চাপ যাতে পুরো অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সতর্ক। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়ায় এই উদ্বেগ বেড়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। পরিবহন ও কৃষিখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। 

একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্যও নতুন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১১০ ডলার ব্যারেলে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে পরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ার পর দাম আবার কমে আসে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও জ্বালানির দাম নতুন করে বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্যাপক দরপতনের পর শুক্রবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোও সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী ছিল। বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ঋণনির্ভর প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের