পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮টি কনটেইনার ওঠানো-নামানোর রেকর্ড

মঙ্গলবার,

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮টি কনটেইনার ওঠানো-নামানোর রেকর্ড

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৪৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮টি কনটেইনার ওঠানো-নামানোর রেকর্ড

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উৎপাদনশীলতার নতুন রেকর্ড করেছে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ। সম্প্রতি এমভি ওয়ানেন নামের সিএমএ-সিজিএমের একটি জাহাজে শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি কনটেইনার (৮২ টিইইউ) হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড করেছে সৌদিআরব-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা টার্মিনালে প্রথমবারের মতো ক্রেনবিহীন জাহাজ (গিয়ারলেস ভেসেল) ‘এমভি ওয়ানেন’-এ নতুন চালু হওয়া শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে কনটেইনার ওঠানামার সময় এই উৎপাদনশীলতা অর্জিত হয় বলে জানিয়েছে আরএসজিটি বাংলাদেশ।

আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৩০টি কনটেইনার (৪৮ টিইইউ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। সে হিসাবে নতুন এ উৎপাদনশীলতা প্রচলিত গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। নতুন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে টার্মিনালটিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গিয়ারলেস জাহাজ পরিচালনাও হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আধুনিক পরিচালন পদ্ধতি এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়েই এ উৎপাদনশীলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এর ফলে জাহাজের বন্দরে অবস্থানের সময় কমার পাশাপাশি জেটি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে এবং জাহাজ-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও কমতে পারে। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে আরো দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রবেশদ্বারে রূপান্তরের লক্ষ্যে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি, পরিচালন দক্ষতা ও জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে তারা।

এক বিবৃতিতে আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরউইন হাযে বলেন, ‘ঘণ্টায় ৫৮টি মুভ বা ৮২ টিইইউ অর্জনের এই সাফল্য কেবল উৎপাদনশীলতার কোনো সাধারণ অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশে আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অপার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তির সংযোজন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সুশৃঙ্খল পরিচালন পদ্ধতি এবং একটি দক্ষ জনবলের যৌথ প্রয়াসেই এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

হাযে বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিচালনাগত মানকে ক্রমাগত উন্নত করতে এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের নিরাপদ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

চট্টগ্রাম বন্দরের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বা আরএসজিটি চিটাগংয়ের (সাবেক নাম পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল) বহরে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় টার্মিনালটির সেবার আওতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে এটির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সৌদি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জুনে এ টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় সৌদি আরবের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএসজিটির হাতে দেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম টার্মিনাল, যেটি প্রথমবার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে টার্মিনালটির সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাতে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর হারও ছিল কম। তবে নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় টার্মিনালটি ব্যবহার করে পণ্য ওঠানো-নামানোর হার বেড়েছে দ্রুতই।

অত্যাধুনিক চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন টার্মিনালের বহরে যুক্ত হওয়ার আগে সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ জাহাজের ক্রেন দিয়ে কনটেইনার ওঠানো-নামানো হতো টার্মিনালটিতে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের একক)।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের