খেলতে গিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে মুহাম্মদ মেজবাহ নামে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘর থেকে মাত্র ৩০-৪০ ফুট দূরে থাকা একটি গর্তের ১২ ফুট নিচে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকা পড়েছিল সে। তাকে উদ্ধার করতে রাউজানের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের টিম এসেছিল চট্টগ্রাম শহর থেকে। পরে যোগ দেয় সেনাবাহিনীও। কিন্তু মেজবাহকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি কেউই।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি একই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করার প্রাণপন চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু সে অনেক গভীরে যাওয়ায় আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। খননযন্ত্র ভ্যাকুর সাহায্য নিতে হয়েছে আমাদের। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির বাবা সাইফুল আলম বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো দিনমজুরের কাজে গিয়েছিলাম। বিকেল ৫ টায় ঘরে এসে শুনি আমার মেজবাহকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শুনি নলকূপের পাইপের ভেতর কান্নার শব্দ শুনেছে আমার এক প্রতিবেশী। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে মেজবাহ ছোট বলে জানা গেছে। তার নিথর দেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এসময় মেজবাহ মেজবাহ বলে বিলাপ করতে থাকেন সাইফুল।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার গৃহহীনদের সরকারিভাবে দেওয়া বসতঘরের ২০-৩০ ফুট দূরত্বে সুপেয় পানির জন্য সরকারি খরচে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। ওই এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় সেখানে পানির উৎসের জন্য গভীর গর্ত তৈরি করা হয়। সেই গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শিশু মেজবাহ খেলতে খেলতে গর্তে পড়ে যায় বলে ধারণা পরিবারসহ স্থানীয়দের। গভীর গর্তে তলিয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারেনি বলে দাবি তাদের।
রাউজান ফায়ার সার্ভিস প্রথমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের আরও একটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়। শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।
মোহাম্মদ আবু তালেব নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শিশুটি পড়ার পর আমরা কান্নার শব্দ শুনেছি। পরে রাউজান ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরপতা শুরু করেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম বলেন, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কর্মী ও সরঞ্জাম নিয়ে অভিযান শুরু করে। তার আগে রাউজান ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গর্তটির ১২ ফুট নিচে শিশুটি ছিল বলে জানান তিনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

