আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং র্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এসব গাড়ি সরবরাহ করবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, র্যাবের জন্য তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি মাইক্রোবাস সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব গাড়ির দাম কত হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন শুধু কোন পদ্ধতিতে কেনা হবে, সে বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দাম কত হবে, তা ক্রয় কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় জানা যাবে।
কেন দরপত্র ছাড়াই কেনা হচ্ছে– এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘আমরা সরকারের টাকা সরকারের ঘরেই রাখছি। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশের প্রথম গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং এটি সরকারি মালিকানাধীন। সে কারণেই আমরা এখান থেকে গাড়ি কিনতে চাই।’
বৈঠকে এ বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যানবাহনের সংকট দূর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতেই এ প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস কেনা প্রয়োজন। তবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং র্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এসব গাড়ি কেনার নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাড়তি দুশ্চিন্তা নেই: স্বরাষ্ট্র সচিব
নির্বাচন সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিলগালা করা হচ্ছে– এমন গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসিমুল গনি বলেন, রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবে না– এমন কোনো বিষয় নেই। মানুষ তাদের জীবিকার প্রয়োজনে যাতায়াত করবে। নির্বাচন ঘিরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাড়তি কোনো উদ্বেগ নেই।
ক্রয় কমিটিতে অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাব
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় চলতি অর্থবছরের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো ট্রেডিং (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড’ থেকে স্বল্প মেয়াদে পাঁচটি এলএনজি কার্গো আমদানিসহ মোট ছয়টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

