জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম সেতু ভেঙে নদে ডুবে দুই পরিবারের চারজনসহ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে কালিকা পুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো— দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়া পাড়ার জয়নাল আবেদীনের ছেলে নিহাদ ও মেয়ে মায়া মনি, ঝালুর চরের শের আলীর মেয়ে খাদিজা আক্তার ও ছেলে মোতালেব হোসেন এবং দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বেলতলীর হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদের ওপর ১৫ বছর আগে এই ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করেছিলো স্থানীয় পৌরসভা। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। অভিযোগ উঠেছে, পাশের ‘মালিহা ইকো পার্ক’ কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসার স্বার্থে ঈদের আগে নড়বড়ে সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে।
ঈদের দিন বিকেলে অতিরিক্ত মানুষ সেতুতে ওঠায় এর মাঝখানের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে নারী ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ নদে পড়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের অভিযোগ, বিপর্যয়ের মুহূর্তে অনেকেই উদ্ধারে এগিয়ে না এসে মোবাইলে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। তারা মনে করেন, সবাই মিলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজে অংশ নিলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতো। চোখের সামনেই এতোগুলো শিশুর মৃত্যু হলো।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার রাত পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নতুন করে কেউ নিখোঁজ থাকার তথ্য নেই, তবে সতর্কতামূলকভাবে আজ রোববারও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানান, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে জামালপুরের পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ঝড়ে সেতুটি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো। অতিরিক্ত মানুষের চাপে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেতুর অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিলো কি না, তা স্থানীয় পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ইকো পার্ক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণে এই অকাল মৃত্যু হয়েছে দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

