ঈদের ছুটির মধ্যেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন ও তেলের ডিপো বন্ধ থাকায় খোলা থাকা পাম্পগুলোতে বেড়েছে চাপ, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ সারি। কিছু পাম্পে এই সারি প্রায় কিলোমিটার ছাড়িয়েছে।
রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অকটেন নিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনের কারণে আশপাশের সড়কে যানজটও দেখা দিয়েছে।
বাইকারদের অভিযোগ, ছুটির কারণে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় সীমিত সংখ্যক পাম্পে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এতে সময় ও জ্বালানি—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার প্রায় পাঁচটি পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই। সেখানে বাইকাররা মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে অকটেন না নিয়ে ফিরে আসছেন। তবে যারা বাইকে পেট্রোল ব্যবহার করেন তারা নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করতে পারছেন।
অপরদিকে, বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট পাম্পে অকটেন থাকলেও সেখানে বাইকারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। পাম্প থেকে প্রায় জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাইকাররা।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেও গত তিন সপ্তাহ ধরে তেলবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
অনেক পাম্পে এখনো সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে মজুত দ্রুত ফুরিয়ে না যায়। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানায়, দেশে ব্যবহৃত পেট্রোল ও অকটেনের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলেও একটি অংশ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সরকার দেশে দাম না বাড়ানোয় এতদিন কিছুটা স্বস্তি ছিল। তবে ঈদের ছুটিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেই স্বস্তি এখন ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

