বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে পথচলার আভাস মিলেছে। গত দেড় বছরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে আগামী দিনে এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গতিশীল করতে একমত হয়েছে দুই দেশ।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিলো, তা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশন বা উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের জোগান নিশ্চিত করা—সবক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, যা আমরা হাইকমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও ভালো করা যায়।
মন্ত্রী আরও জানান, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানোর বিষয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো, সেটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়বে, যা আমাদের ওপরও আসতে পারে। তবে আশার কথা হলো, দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও জোগান রয়েছে।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দুই দেশের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত জোরালো বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিদ্যমান। আমরা ট্রান্সশিপমেন্ট বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলাদা করে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মিলিতভাবে সব কিছুকে এগিয়ে নিতে চাই।
তিনি বলেন, ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

