সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশের কয়েকশ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন অনুসারীরা কয়েক দশক ধরে এই রীতি মেনে আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।
লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে শুক্রবার সকালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বড়াঘরিয়া, হাটাতিয়া, শরশাই, কাঞ্চনপুর এবং রায়পুর উপজেলার কলাকাপাসহ মোট ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সকাল সাড়ে সাতটায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকাহে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়াও এসব গ্রামের বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে আলাদাভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ সকল ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। জানা যায়, গত প্রায় ৪৭ বছর ধরে তারা এ প্রথা অনুসরণ করে আগাম ঈদ উদযাপন করছেন।
পিরোজপুরে ১০ গ্রামে ঈদ
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০ গ্রামের আট শতাধিক পরিবার ঈদ উদযাপন করছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের করেন ওই ১০ গ্রামের মানুষ।
প্রতিবছর পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে, মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে, জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমি মসজিদে এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িতে এ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামের হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা ১৫০ বছর ধরে প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ওইসব পরিবার আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে বলে তারা জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া এ ৬ গ্রামের প্রায় ৭ শতাধিক, জেলার কাউখালী উপজেলার বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ পরিবার, জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের ৩৫ পরিবার, জেলার সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের কদমতলা ও একপাই জুজখোলা গ্রামের প্রায় ৬০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের আগের দিনই ঈদ উদযাপন করছে।
সরিষাবাড়ীর ১৬ গ্রামে ঈদ
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৬টি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদুল ফিতর নামাজ আদায় করেছেন।
শুক্রবার সকালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদসহ মোট চারটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন উপজেলার বলারদিয়ার, মুলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুটিয়ারপাড়, বগারপাড়, উচ্চগ্রাম, চর লোটাবর ও করগ্রামের প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি।
নারী ও পুরুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আজিম উদ্দিন মাস্টার ঈদের নামাজে ইমামতি করেন।
নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার ঘোষণা অনুযায়ী তারা ঈদ পালন করে থাকেন। তাদের মতে, ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ধর্ম, তাই পবিত্র মক্কা শরিফে যে দিন নির্ধারিত হয়, সেটিকে অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত।
এ প্রসঙ্গে ঈমাম আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমরা রমজানের রোজা থেকে শুরু করে সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যের সময়সূচি অনুসরণ করে থাকি। ঈদুল আজহার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তাই আমরা দিনপূর্বেই ঈদ উদযাপন করি।
কলাপাড়ায় আট গ্রামে আগাম ঈদ
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আজ আগাম ঈদ উদযাপন করছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগারিয়া শাহ সুফী মমতাজিয়া দরবার শরীফ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া চম্পাপুর, সাফাখালী, লালুয়া, ফুলতলী, পাঁচজুনিয়া, বালিয়াতলী ও কলাপাড়া পৌর শহরের নাইয়া পট্টিতে আলাদা ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকাল থেকে এসব গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই নতুন কাপড় পরিধান করে ঈদ জামাতে মিলিত হয়। সবচেয়ে বেশি উচ্ছসিত ছিলো শিশুরা। নামাজ শেষে দেশ ও উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
স্থানীয়ভাবে এরা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২০০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে উদযাপন করছে ঈদ।
নিশানবাড়িয়া জাহাগারিয়া শাহ সুফী মমতাজিয়া দরবার শরীফের পরিচালক নিজাম বিশ্বাস বলেন, তারা প্রতিবছরের মতো সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন। শতশত বছর ধরে তারা ৩০ রোজা শেষে চাঁদের জন্মের দিন পৃথিবীর অন্য দেশের মতো ঈদ উৎসবে মিলিত হন।
সোনারগাঁওয়ে ২৩ গ্রামে ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩ গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদ উদযাপন করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের একদিন আগেই তারাবির নামাজ পড়ে রোজা শুরু করেন তারা। এ বছরও এসব গ্রামের মানুষ একদিন আগেই শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। উপজেলার ২৩টি মসজিদে একযোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেন তারা।
গ্রামগুলো হলো- সনমান্দী ইউনিয়নের বাংলাবাজার গিরদান,সাদিপুর ইউনিয়নের গণকবাড়ী, পশ্চিম গজারিয়াপাড়া,রতন মার্কেট, হলদাবাড়ি, দক্ষিণ গজারিয়াপাড়া,কোনাবাড়ি উত্তরপাড়া,কোনাবাড়ি, লস্করবাড়ি দক্ষিণপাড়া, গণকবাড়ি দক্ষিণপাড়া, কোনাবাড়ি পশ্চিম পাড়া,হাতুরাপাড়া, সাদিপুর বড় বাড়ি, পূর্ব গজারিয়াপাড়া, বারদী ইউনিয়নে চান্দেরপাড়া, জামপুর ইউনিয়নে আমগাঁও, বাসাবো, মুছারচর মধ্যপাড়া, বস্তল মধ্যপাড়া, শামপুর কলতাপাড়া গ্রাম।
তারা জানান, বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যাবে। আমরা চাঁদ দেখে রোজা রেখেছি চাঁদ দেখেই ঈদ উদযাপন করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই উপজেলায় আগাম ঈদ
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি গ্রামে এবং সদর উপজেলার দুটি গ্রামে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
শুক্রবার জামায়াতের সাথে দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের রাধানগর ও ৭৬ বিঘিসহ আরও একটি গ্রামের কিছু মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন।
সকাল আটটায় সময় ৭৬ বিঘি আম বাগানে ঈদুল ফিতের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা ইউসুফ আলী। শিবগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার মুসুলিরা সেখানে ১০০-২০০ জন নারী - পুরুষ ঈদ জামায়াতে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের মোমিনটোলা ও বাগানপাড়া এলাকায় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়,সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে মিল রেখে দেশের অনেক জায়গাতেই ইদের নামাজ আদায় করেন কিছু মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ও কিছু মানুষ এবারও ঈদের নামাজ আদায় করেছে ।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ।
মুসল্লীরা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন। এবারও উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মুসল্লিরা এ ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মাদারীপুরে ২৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের ঈদ উদযাপন
মাদারীপুরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ’ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করেন। ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ সিদ্দুকুর রহমান।
জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহ.)-এর অনুসারীরা প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা বাহেরচর, তাল্লুক, চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, দৌলতপুর, কালিকাপুর, হোসনাবাদ, রঘুরামপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ি, বাহেরচর, কেরানীরবাট, রমজানপুর, কয়ারিয়া, রামারপুল, সাহেবরামপুর, আন্ডারচর ও খাসেরহাটসহ ২৫টি গ্রামের মানুষ এ ঈদ উদযাপনে অংশ নেন।
সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদ মো. সাগর দেওয়ান জানান, প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। প্রতিবছর দুটি ঈদই এভাবেই পালন করে আসছি।
বগুড়ার দুই উপজেলায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে জেলার গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার আলাদা দুটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব জামাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
সকাল সাড়ে আটটায় গাবতলী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর। এই জামাতে প্রায় অর্ধশতাধিক মুসল্লি অংশ নেয়। গাবতলীতে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো আগাম ঈদের জামাত।
অপরদিকে সোনাতলার কালাইহাটা গ্রামে সকাল সাড়ে সাতটায় ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় কয়েক বাড়ির মুসল্লিরা। সোনাতলার কালাইহাটা দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করেন মো. শামীম হোসেন এবং বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করেন আব্দুল আলীম।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জামাতগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা উপস্থিতিও ছিলেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
মৌলভীবাজারে শতাধিক পরিবারের ঈদ উদযাপন
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসায় সকাল সাতটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এখানে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নামাজে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী ও পুরুষ মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি)।
চাঁদপুরের প্রায় ৪০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন
বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে অগ্রিম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে আটায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন পীর আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।
প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মুসল্লি এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ১৯২৮ সালে মাওলানা ইছহাক চৌধুরীর প্রচলিত এ রীতি অনুসরণ করে বর্তমানে হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উপজেলার ৪০টি গ্রামে আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে।
তবে দরবার শরীফের পীর জানান- পৃথিবীর যেকোন স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ ঈদ পালন করা হচ্ছে।
ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জের সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুর।
ঝালকাঠির রাজাপুরে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝালকাঠির রাজাপুরে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সোয়া আটায় উপজেলার ডহরশংকর এলাকার দারুস-সুন্নাহ ঈদগাহ মাঠে এ নামাজ আদায় কারেন অন্তত ৪৫টি পরিবারের দেড়শতাধিত ধর্মপ্রান মুসলিম নারী ও পুরুষ। একই জামাতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা আলাদা তাবুর ভেতর থেকে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ২০২০ সাল থেকে ডহরশংকর গ্রামের এ পরিবারগুলো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের নামাজে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
দারুস-সুন্নাহ ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মো. রিপন হাওলাদার বলেন, ২০১৩ সালে তিনটি পরিবার নিয়ে নবী করিম (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন শুরু করি। ২০২০ সাল থেকে এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করি এবং প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করি। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। আশপাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে নামাজে অংশ নিতে আসেন।
ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও খতিব মাওলানা আমিনুর ইসলাম বলেন, তারিকা বলতে আমরা নবী করিম (সা.) এর তরিকাকেই বুঝি। কোরআন ও সহিহ হাদিস অনুযায়ী যে আমল পাওয়া যায়, আমরা তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি। সহিহ হাদিস অনুযায়ী সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে প্রথম চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেছি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যদি দুই ব্যক্তি নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়, তবে সিয়াম ও ঈদ পালন করো। এখানে নির্দিষ্ট কোনো দেশের কথা বলা হয়নি। সেই হাদিসের ভিত্তিতেই আমরা চাঁদ দেখার সংবাদ পেয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।
ভোলার ১৪ গ্রামে আগাম ঈদ পালন
সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান আগামীকাল শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেও ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৪টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার একদিন আগে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা টবগী গ্রামে মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ছালাম মেম্বার বাড়ি, আব্দুল্লাহ মাঝি বাড়ি, লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালীর পশ্চিম পাশে পাটোয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করার পাশাপাশি দোয়া–মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ঈদ পালনকারীরা জানান, জেলার ৫ উপজেলার ১৪ গ্রামের শরিয়তপুরের সুরেশ্বর পীরের মুরিদ, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং ভান্ডারি শরিফ পীরের প্রায় ৩ হাজার পরিবারের এসব সদস্যরা শতাধিক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন।
পটুয়াখালী ২৮ গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন
নির্দিষ্ট কোনো দেশের চাঁদের ওপর নির্ভর না করে বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পটুয়াখালীর অন্তত ২৮ টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসব ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফসহ বিভিন্ন এলাকায় সকালেই ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন খতিব মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং মিষ্টি ও পায়েস বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
বদরপুর দাওয়াতুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯২৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের কিছু মানুষ বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
তাদের বিশ্বাস, সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একই চাঁদের আলোকে নিজ নিজ সময় অনুযায়ী রোজা, ঈদ ও কোরবানিসহ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করা উচিত।
এ বছর পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনিপাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালী, ইটবাড়িয়া, পৌর শহরের নাইয়াপট্টি, বাদুড়তলি, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সাফাখালী, গলাচিপার ছোটবাইশদিয়া ও রাঙ্গাবালীর কাটাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ ঈদ উদযাপনে অংশ নেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

