পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও তিন মেয়ে, দোয়া চাইলেন ছেলে

শনিবার,

২৭ জুন ২০২৬,

১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

শনিবার,

২৭ জুন ২০২৬,

১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও তিন মেয়ে, দোয়া চাইলেন ছেলে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:০৭, ২৭ জুন ২০২৬

Google News
পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও তিন মেয়ে, দোয়া চাইলেন ছেলে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়। এসময় স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবারের চার সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।

পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ ইসলাম সিফাত জানাজায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহত অন্তর মজুমদার ছাড়াও যদি অন্য কোনো ঘাতক থেকে থাকে, তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তা‌র করতে হবে। সবাই আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

নিহত শাহীনুরের মা হাজরা বেগম শোকাহত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে ও নাতনিদের যারা হত্যা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।

শাহীনুরের শাশুড়িও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, আমার ছেলের বউ ও নাতনিদের কী দোষ ছিল। কেন তাদের হত্যা করা হলো।

এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো লটিয়া গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, শুক্রবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও তার তিন মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম, ইকরা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মাও মারা যান।

এ ঘটনায় এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে তার পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

শুক্রবার দুপুরে নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন।

এ ছাড়া ঘটনার দিন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের