ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত: সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

মঙ্গলবার,

২৫ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

২৫ আগস্ট ২০২৬,

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত: সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:০৯, ২৫ আগস্ট ২০২৬

Google News
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত: সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল। 

পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকই ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে। 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। 

এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। 

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। 

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। 

সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। 

এখন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দিকে নজর রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের। 

মানবাধিকারকর্মী কোহিনূর বেগম জানান, বিভিন্ন অনুযোগ অভিযোগের পর আজকে যেহেতু ডিএনএ-তে প্রমাণিত হয়েছে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকই ধর্ষণকারী। সেহেতু আমাদের দাবি দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। যাতে এই শাস্তির মাধ্যমে সমাজের সচেতনতার সৃষ্টি হয় এবং ধর্ষণের মতো ন্যক্কার জন্য ঘটনা না ঘটে। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের