তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। আজ (মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এই বৈঠকে অংশ নেয়। বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের তারল্য সংকট নিরসন এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস সময় মতো পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ নেতাদের উত্থাপিত উদ্বেগের জবাবে ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ‘কারখানাগুলো যাতে উৎসবের আগে শ্রমিকদের প্রতি তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সংকট লাঘবে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাধিকার দেবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের ক্ষেত্রে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তারা আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভাষা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদন কার্যদিবস মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। এতে করে নিয়মিত শিপমেন্ট বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কারখানাগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস সময় মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল গভর্নরের কাছে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে— ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড়, দুই মাসের সমপরিমাণ বেতন সহায়তা ঋণ প্রদান (যা ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য এবং তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ), প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাশাপাশি প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার সাত শতাংশে নির্ধারণ।
শিল্প নেতারা জোর দিয়ে জানান, শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা এই সংকট সময়ে শিল্প, শ্রমিক এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ নেতারা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

