চলতি অর্থবছরের তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

বুধবার,

১৮ মার্চ ২০২৬,

৪ চৈত্র ১৪৩২

বুধবার,

১৮ মার্চ ২০২৬,

৪ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

চলতি অর্থবছরের তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:০০, ১৮ মার্চ ২০২৬

Google News
চলতি অর্থবছরের তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে মোট ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে বছরওয়ারি হিসেবে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ।

এই সময়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, যার পরিমাণ ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখান থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং সরকারের কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপের ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে তিন মাসে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রও শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।

এদিকে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে ১৮ হাজার ২২৫ জন নারী। এদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক গেছেন।

ব্যাংকিং চ্যানেলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে—৬১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, যা মোটের ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার (১৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ), বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার (১০ দশমিক ২৯ শতাংশ)। অন্যদিকে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মাত্র ১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, যা মোটের শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের