সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার পথে পাকিস্তান, সুবিধা পাচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোও

বৃহস্পতিবার,

০৯ জুলাই ২০২৬,

২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

০৯ জুলাই ২০২৬,

২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার পথে পাকিস্তান, সুবিধা পাচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোও

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:২৪, ৮ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২৩:২৪, ৮ জুলাই ২০২৬

Google News
সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার পথে পাকিস্তান, সুবিধা পাচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোও

আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত (কনভেনশনাল) ও ইসলামিক- উভয় ধরনের ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় ব্যাংকগুলোর তুলনায় তাদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নীতি একদিকে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, অন্যদিকে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিচয় বহন করে।

২০২৮ সালের সময়সীমা

পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট ২০২২ সালে রায় দিয়েছিল, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং পুরোপুরি তুলে দিতে হবে। পরে সরকার সংবিধানের ২৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৮ সালকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করার একটি রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

ধাপে ধাপে রূপান্তরের পরিকল্পনা

নতুন রোডম্যাপে বলা হয়েছে, চলমান ঋণ ও আর্থিক চুক্তিগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য বিদ্যমান চুক্তি বাতিল করা হবে না।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আইনি অনিশ্চয়তা কমাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখবে এবং আর্থিক খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়াতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে বিদেশি মালিকানাধীন অধিকাংশ ব্যাংককে ইসলামিক ও প্রচলিত- দুই ধরনের ব্যাংকিং সেবা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ একক ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

ইসলামিক অর্থায়ন জোরদারের উদ্যোগ

রোডম্যাপে ইসলামিক অর্থায়নের বাজার সম্প্রসারণে নিয়মিত সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ইস্যুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সুকুক চালুর মাধ্যমে ইসলামিক আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ফেডারেল সরকারের সম্পদের একটি পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি সম্পদভিত্তিক সুকুক ইস্যু করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে সম্পদের স্বচ্ছ মূল্যায়ন, সুশাসন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বিতর্ক রয়ে গেছে

তবে রোডম্যাপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে গেছে।

অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সব ধরনের সুদকে রিবা হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাদের মতে, ইসলামে মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে শোষণমূলক ঋণ ও অন্যায্য সুদ, সব ধরনের আর্থিক মুনাফা নয়।

অন্যদিকে ফেডারেল শরিয়ত কোর্টের অবস্থান হলো, আধুনিক ব্যাংকিং সুদও রিবার আওতায় পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক দেশেই দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক ও প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা পাশাপাশি চলছে। এমনকি সরকারি নীতিগত সহায়তা থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাংকিং এখনও পুরো বাজার দখল করতে পারেনি। এতে বোঝা যায়, গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখনও বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখতে চান।

বিদেশি ব্যাংক সুবিধা পেলেও দেশীয়দের ক্ষেত্রে প্রশ্ন

সরকার বিদেশি ব্যাংকগুলোকে দ্বৈত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও একই সুবিধা দেশীয় ব্যাংকগুলোকে না দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যখন বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ‘সম্ভব হলে’ শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের কথা বলছে, তখন দেশীয় ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।

তাদের মতে, ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করতে জোরপূর্বক ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিযোগিতা, সেবার মান এবং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদাই বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে ইসলামিক ও প্রচলিত- উভয় ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিছু সময় পাশাপাশি চলতে দিলে বাজারই ভবিষ্যতে কোন মডেল বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের