সিকৃবিতে একসঙ্গে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?

মঙ্গলবার,

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মঙ্গলবার,

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

সিকৃবিতে একসঙ্গে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
সিকৃবিতে একসঙ্গে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একসঙ্গে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিন উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।

সোমবার দুপুরে পদত্যাগকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে পাঁচটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং দুটি অতিথিশালার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রেজিস্টার মো. বাসির উদ্দিন। 

পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতকাজ হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই সেখানে কিছু মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগকারীরা বলেন, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এ নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন তারা।

পদত্যাগকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

পদত্যাগকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সদস্য বলে জানা গেছে। তবে তাদের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। কোনো নিয়োগে অনিয়ম হয়নি এবং কোনো ধরনের দুর্নীতিও করা হয়নি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের