ডেঙ্গু এখন আর ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাব মানছে না। মৌসুমি রোগটি এখন বছরজুড়েই ছড়াচ্ছে ভয় আর আতঙ্ক। এ বছরও ব্যতিক্রম নয়। বছরের প্রথম কয়েক মাস পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষার পর দ্রুত বদলে যেতে থাকে চিত্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৩ হাজার। প্রাণ হারিয়েছে ১২১ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ প্রায় ৪১ হাজার; বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৩১৪ জন
গেল তিন মাসে মৃত্যুর গ্রাফটা কেবলই উর্ধ্বমুখী। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, সবশেষ আগস্টে ঝরেছে ৪৩ জনের প্রাণ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সংখ্যা ২৪। সেপ্টেম্বরের প্রথম চার দিনের প্রতিদিনই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। ফলে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ হাসনাত বলেন, আমাদের মধ্যে আসলে আতঙ্ক বেশি, কিন্তু আমরা সচেতন না। আমরা সচেতন হব, যাতে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ না করতে পারে। ডেঙ্গু প্রজনন ক্ষেত্রগুলোকে আমরা ধ্বংস করব আগে থেকেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে জ্বর হলে আমরা দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাব, এবং নিশ্চিত হব এটি ডেঙ্গু রোগ কি না।
এমন অবস্থায় সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা ডেঙ্গু রোগীর জন্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তনের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে আমরা মশারি নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। বেসকরারি হাসপাতালগুলোকেও পরীক্ষা-নীরিক্ষার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিলেন সংশ্লিষ্টরা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

