গোয়ালিয়রের সাধারণ এক ছেলে একদিন বলিউডে নিজের জায়গা করে নেবে—এ কথা শুনে হয়তো অনেকেই হেসেছিলেন। তবে স্বপ্ন দেখতে জানতেন কার্তিক আরিয়ান।
সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ ও কঠিন পথ। এবার সেই পথচলার বড় স্বীকৃতি হিসেবে হাতে উঠল ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কার্তিক আরিয়ান। ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মুরলিকান্ত পেটকরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই সম্মান পেয়েছেন তিনি।
গুজরাটে অনুষ্ঠিত ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কার্তিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘রজত কমল’ ও সম্মাননা সনদ। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল গোয়ালিয়রের সেই দিনগুলো, যেখান থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কার্তিক লিখেছেন, ‘গোয়ালিয়রের সেই সাধারণ ছেলেটির দিকে আজ পিছন ফিরে হাসিমুখে তাকাচ্ছি, যে এমন এক পরিবেশ থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে মানুষ এমন স্বপ্নে কেবল হেসে উড়িয়ে দিত।
অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটির সাক্ষী হলাম এবং জীবনকে উপভোগ করলাম... আনন্দে আর উত্তেজনায় এখনও অনুভূতিহীন লাগছে।’
‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর চরিত্রটির জন্য নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন কার্তিক। মুরলিকান্ত পেটকরের শরীরী ভাষা, মানসিকতা ও জীবনের সংগ্রাম পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তার সেই পরিশ্রম প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক ও সমালোচকদের কাছেও।
এবার সেই কঠোর পরিশ্রমেরই মিলল জাতীয় স্বীকৃতি।
তবে এ বছর এককভাবে নয়, যৌথভাবে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান ও মালয়ালম তারকা মাম্মুটি। ‘ব্রহ্মযুগম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন মাম্মুটি।
এই অর্জনের জন্য পরিচালক কবির খান ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কার্তিক। মুরলিকান্ত পেটকরের মতো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
কার্তিকের ভাষ্যে, চরিত্রটির যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সেই কঠিন পথ পেরিয়ে পাওয়া সাফল্যের স্বাদ তার কাছে ‘রসমলাইয়ের মতোই মিষ্টি’।
নিজের জাতীয় পুরস্কার পরিবার, বন্ধু ও পুরো টিমের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ান এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখা মানুষদের উৎসর্গ করেছেন কার্তিক আরিয়ান।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

