পাকিস্তানসহ ৮ মুসলিম দেশের সতর্কতা

মঙ্গলবার,

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

সম্প্রসারণবাদী ইসরায়েলি নীতি

পাকিস্তানসহ ৮ মুসলিম দেশের সতর্কতা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:২৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
পাকিস্তানসহ ৮ মুসলিম দেশের সতর্কতা

পশ্চিম তীরে ‘ক্রমাগত সম্প্রসারণবাদী ইসরায়েলি নীতি’ নিয়ে সতর্ক করেছে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ। সোমবার (০৯ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়। এসব নীতি অবৈধ দখলদারিত্বকে আরও দ্রুততর করছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টার অংশ বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

যৌথ বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনর্ব্যক্ত করেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে রোববার ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা একাধিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে, যার ফলে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রয়োগক্ষমতা আরও বাড়বে। এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের কথাও জানানো হয়।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির গণমাধ্যম ইয়োনেট ও হারেৎজ জানায়, নতুন সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে বহু দশক পুরোনো সেই বিধিনিষেধ বাতিল করা হয়েছে, যা পশ্চিম তীরে ইহুদি বেসরকারি নাগরিকদের জমি কেনা থেকে বিরত রাখত।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পদক্ষেপকে বিপজ্জনক, অবৈধ এবং কার্যত ভূখণ্ড সংযুক্তিকরণের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন।

যৌথ বিবৃতিতে আট মুসলিম দেশ সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই নীতিগুলো সহিংসতা ও সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তারা এসব কর্মকাণ্ডকে ৪ জুন ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফিলিস্তিনি জনগণের অখণ্ড অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে গৃহীত এসব ব্যবস্থা আইনগতভাবে বাতিল ও অকার্যকর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের নীতিগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৩৩৪সহ একাধিক প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পূর্ব জেরুজালেমসহ জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া সব ইসরাইলি পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের উপদেষ্টা মতামতের কথা তুলে ধরা হয়, যেখানে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি ও সেখানে তাদের অব্যাহত উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা যেন তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে এবং অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড ও দেশটির কর্মকর্তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধ অধিকার বাস্তবায়নই এই অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের