নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীতে থাকা ভোটারদের যার যার এলাকায় ফিরতে লঞ্চ রিজার্ভ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। যাত্রাপথে রয়েছে আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা। প্রার্থীদের উদ্যোগে রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী লঞ্চগুলোতে এ কার্যক্রম গত সোমবার থেকে শুরু হয়; যা আজ বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এর আগের কোনো নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের প্রার্থীদের এসব আয়োজন করতে দেখা যায়নি। বিষয়টি গুরুতর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন কিনা তা নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার রাতে বরিশাল ও পটুয়াখালীর ডিসি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা কেউ সাড়া দেননি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) হাসান মামুনের পক্ষে রাজধানীর ভোটারদের আনার জন্য লঞ্চ রিজার্ভ করে ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন। হাসান মামুনের পক্ষে ঢাকার সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১টি করে লঞ্চ রিজার্ভ রাখা হয়েছে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার যাত্রীদের পরিবহনের জন্য। এ বিষয়ে জানতে মামুনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হাবিবুর রহমান হিরুকে ফোন দিলে যাত্রী ভেবে তিনি বলেন, ‘‘আপনি সদরঘাটে গিয়ে বললেই হবে আমি ‘ঘোড়া’ মার্কার। আমাদের লোক আছে আপনাকে টোকেন দিয়ে দেবে।’’
অন্যদিকে নুরের পক্ষে ভোটারদের জন্য ‘রাজারহাট-বি’ এবং ‘রয়েল ক্রুজ-২’ লঞ্চ রিজার্ভ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নুরের মিডিয়া সেলের প্রধান আবু নাঈম বলেন, লঞ্চ রিজার্ভ করার আর্থিক সামর্থ্য আমাদের প্রার্থীর নেই। সমর্থক শুভাকাঙ্ক্ষীরা মঙ্গল ও বুধবারের জন্য দুটি লঞ্চ রিজার্ভ করেছেন।
পটুয়াখালী-৪ (বাউফল) আসনেও রাজধানীতে থাকা স্থানীয় ভোটার আনতে লঞ্চ ও বাস রিজার্ভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম তালুকদার ও জামায়াত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, শহিদুলের পক্ষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে এমভি রাসেল নামে একটি লঞ্চ ও ৫টি বাস যাত্রী বহন করেছে। অন্যদিকে মাসুদের পক্ষে এমভি ঈগল ও এমভি রাজহংস নামে দুটি লঞ্চ একই রাতে ঢাকা থেকে বাউফলের উদ্দেশে রওনা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার সারাদিন বেশ কয়েকটি রিজার্ভ বাসে ঢাকা থেকে বাউফলে যাত্রী আসে।
ড. মাসুদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুনতাসির মুজাহিদ ও শহিদুল আলমের পক্ষে বিএনপি নেতা তছলিম তালুকদার দাবি করেছেন, প্রার্থী নয়, সমর্থকরা নিজ নিজ উদ্যোগে লঞ্চ-বাস রিজার্ভ করেছেন।
মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার ভোটারদের আনতে রাজহংস-৮ লঞ্চ রিজার্ভ করা হয়েছে বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের পক্ষে। আজ বুধবার রাতে ঢাকার সদরঘাট থেকে এ লঞ্চটি যাত্রা করবে। জব্বারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান জহির উদ্দিন ইয়ামিন অন্যদের মতোই লঞ্চ রিজার্ভের কথা অস্বীকার করে বলেন, রাজহংস-৮ লঞ্চ কে বা কারা রিজার্ভ করেছেন এটা আমাদের জানা নেই।
তবে শুধু রিজার্ভ নয়, নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটিতে রাজধানী থেকে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার সারাদিন বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ছিল যাত্রীতে ভরপুর। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাসের টিকিট পাওয়া যায়নি। তাই লোকাল বাসে এসেছেন। ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা করে; যা স্বাভাবিক সময়ে ছিল ৫০০ টাকা।
ভোলায় মানুষের ঢল, বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই লঞ্চবোঝাই করে যাত্রী আসছেন ভোলায়। তিল ধারণের জায়গা নেই লঞ্চগুলোতে। তবে ইলিশা ঘাটে নেমে প্রয়োজনীয় পরিবহন না পেয়ে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তদারকি। এই সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে লঞ্চ ও অন্যান্য পরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন জানান, নির্বাচনে ভোট দিতে সপরিবারে বাড়িতে এসেছেন। তরুণ ভোটার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মহিবুল্যাহ রিয়াদ জানান, প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এ কারণে তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন। তিনি চান জীবনের প্রথম ভোট যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দিতে পারেন।
পথে পথে নানা ভোগান্তিও ভোট উৎসবে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেননি গাজীপুরের গার্মেন্ট শ্রমিক মো. আনোয়ারকে। তিনি জানান, ছুটি কাজে লাগিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। একটু বাড়তি খরচ হচ্ছে, কিন্তু তাতেও খুশি।
ঘাটসূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৬টি লঞ্চ দুপুরে ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। এতে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী ছিল। সোমবার রাতে সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ৪টি লঞ্চ ভোররাতে ইলিশা ঘাটে যাত্রী নামিয়ে ঢাকায় ফেরত গেছে। এছাড়া সোমবার রাত থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট হয়ে কয়েক হাজার যাত্রী ভোলায় এসেছেন। বরিশাল থেকেও যাত্রী বোঝাই করে ভোলায় এসেছে প্রতিটি লঞ্চ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

