আমেরিকা-কানাডা সেতু উদ্বোধনে ট্রাম্পের বাধা

বুধবার,

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

বুধবার,

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

আমেরিকা-কানাডা সেতু উদ্বোধনে ট্রাম্পের বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০১, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
আমেরিকা-কানাডা সেতু উদ্বোধনে ট্রাম্পের বাধা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা ও কানাডাকে সংযোগকারী একটি নবনির্মিত সেতু উদ্বোধনে বাধা দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তার দাবি, ওয়াশিংটন তার উত্তরদিকের এই প্রতিবেশীকে যা যা দিয়েছে, তার পুরো ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই সেতু চালু হতে দেয়া হবে না।

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশ এবং মার্কিন রাজ্য মিশিগানের মধ্যে সংযোগকারী ‘গোর্ডি হাওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’ সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, অটোয়া যতক্ষণ না আমেরিকাকে প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দিচ্ছে, ততক্ষণ এটি খুলবে না।

প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সেতুর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছে কানাডা সরকার, তবে এর মালিকানা যৌথভাবে কানাডা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকবে।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন বলেছেন, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া মিশিগানের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে। তিনি এক্সে এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, এর ফলে মিশিগানের ব্যবসায়িক খরচ বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে এবং কর্মসংস্থান কমবে।

ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এটি বন্ধ করবেন তা স্পষ্ট না করলেও তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু হবে। ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি চলতি বছরের শুরুর দিকেই যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা ছিল। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া ৬৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের এই প্রকল্পটি গত এক দশক ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, এই সম্পদের অন্তত অর্ধেক মালিকানা আমেরিকার থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা সেতুর উভয় প্রান্তের মালিকানা নিজের কাছে রাখতে চায়। ট্রাম্প আরও লেখেন, কানাডা সরকার কি আশা করে, আমি তাদের আমেরিকাকে ঠকানোর অনুমতি দেব? যুক্তরাষ্ট্রকে সব কিছুর ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত আমি এটি খুলতে দেব না।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন ইস্পাত ব্যবহার ছাড়াই এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে ওন্টারিওর উইন্ডসর শহরের মেয়র ড্রিউ ডিলকেনস এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে একে পাগলামি বলে অভিহিত করেছেন।

ডেট্রয়েট ও কানাডার সংযোগকারী 'অ্যাম্বাসেডর ব্রিজ'-এর মালিক আমেরিকান মরুন পরিবার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধের আবেদন জানিয়েছিল। কারণ এটি চালু হলে তাদের টোল আদায়ের একচেটিয়া ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে সে সময় ট্রাম্প ও তৎকালীন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক যৌথ বিবৃতিতে একে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য বলে বর্ণনা করেছিলেন।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ট্রাম্পের হুমকির বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি তার স্টেটের কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে, ট্রাম্প সম্প্রতি দুই দেশের বাণিজ্যিক বিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর কানাডার শুল্ক দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও দাবি করেন, গত মাসে চীনের সাথে কানাডার করা বাণিজ্য চুক্তি কানাডাকে গিলে খাবে।

রসিকতা করে ট্রাম্প আরও বলেন, চীন সবার আগে কানাডায় আইস হকি খেলা বন্ধ করে দেবে এবং স্ট্যানলি কাপ চিরতরে বিলুপ্ত করবে। এর জবাবে সিনেটর স্লটকিন বলেন, ট্রাম্প গত এক বছর ধরে কানাডাকে ক্রমাগত আঘাত করার কারণেই তারা চীনের সাথে চুক্তিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে কানাডা আমেরিকার বন্ধু, শত্রু নয়।

কানাডার সেতু কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মেয়র কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের