জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি

রোববার,

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৬ মাঘ ১৪৩২

রোববার,

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৬ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:২৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি

সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০ নারী ও একটি সংগঠন।

রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন, যেখানে তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছেন।

সিইসিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ১০ নারী ও নারী পক্ষ নামের সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয় বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অবদানশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে হ্যাকিং-এর ফল বলে ব্যাখ্যা প্রদান করা হলেও, ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি।’

তাদের মতে, শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ‘চরম পরিপন্থি’।

‘আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে।’

রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না তুলে ধরে চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের চার দাবি হল-
১. অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে, এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।

৪. নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ওই ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।

সিইসিকে স্মারকলিপি দেওয়া নারীরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী ও অধিকার কর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্য এর কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের