আসছে পবিত্র রমজান মাস। রমজান উপলক্ষে অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছেন। তবে অস্থিরতা দেখা গেছে রোজার অন্যতম পণ্য খেজুরের দামে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ধরনভেদে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা।
যদিও দেশে খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যান্যবারের মতো নেই আমদানি শুল্কেরও চাপ। তবুও কেন এই অস্থিরতা? এক্ষেত্রে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অন্যকে দোষারোপ করছেন। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেজন্য ভোক্তাদের কাছে বেশি দামে বিক্রির বিকল্প নেই।
সাধারণত রমজানে খেজুরের চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় বছরের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ খেজুর বিক্রি হয়। সেজন্য সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে গত ডিসেম্বরেই খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে দেয় সরকার। তবুও বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
বর্তমান বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর; প্রতি কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ফল বিক্রেতা রাকিব মুন্সি গণমাধ্যমকে জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে আরেক বিক্রেতা বলছেন, ‘পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম বাড়েনি। বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। খেজুরের সরবরাহেও কোনো সংকট নেই। খুচরা বাজারে কেন দাম বেড়েছে, বলতে পারব না।’
উল্লেখ্য, রোজার সময় ইফতারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের চাহিদা বাড়ে। গত এক মাসের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, আনার, কমলার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

