৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তাদের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে-কমিশন গঠন হলেও গেজেট না হওয়ায় তাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তর ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্বাধীন পে-কমিশন গঠন করা হয়, যা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় এই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নে যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে মতামত দেবে।
পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, একসঙ্গে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে এই ব্যয় হতে পারে। তবে বাস্তবে পে-স্কেল সবসময় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

