নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিম মিয়া (১৪)। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুস্তাকিম সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে এরশাদ মিয়া। এই বিরোধে অতীতেও একাধিক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিতে নিহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার গুলিতে মুস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “আমরা কোনো পক্ষের নই। আমার ছেলেকে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলি করা হয়েছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর মুস্তাকিমকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

