ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কেই মারো

বৃহস্পতিবার,

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২২ মাঘ ১৪৩২

বৃহস্পতিবার,

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২২ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

এপস্টেইনের বন্ধু নরওয়ের কূটনীতিকের মন্তব্য

ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কেই মারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:১৮, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কেই মারো

কুখ্যাত যৌন অপরাধী হিসেবে পরিচিত জেফরি এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া নথিতে ভারত সম্পর্কে মিলেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এসব তথ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়। নথিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভারত সম্পর্কে যেসকল পাওয়া যার তার মধ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঝড় তুলেছে -এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক জাতিসংঘ দূত নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেন ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেন, ‘এই প্রবাদটি শুনেছ? সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।’

এপস্টেইন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ শীর্ষ মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নামও উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নিয়ে মোদির দল বিজেপিতে যোগ দেয়া পুরি এসব নথিতে একাধিকবার স্থান পেয়েছেন।

নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন মাসে হরদীপ সিং পুরি ও জেফ্রি এপস্টেইনের মধ্যে ই-মেইল আদান–প্রদান হয়। ওই সময় তারা লিংকডইনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা করেন। পরে পুরি এপস্টেইন ও হফম্যানকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে হফম্যানকে ভারত সফরের জন্য উৎসাহিত করেন।

রেকর্ডে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও হরদীপ সিং পুরি একাধিকবার নিউইয়র্কে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে যান। এসব সফরের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের ১৯ মে। এ বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমকে পুরি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সব যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ ছিল কেবল ব্যবসায়িক কারণে।

তবে নথিতে দেখা যায়, পুরি যখন এপস্টেইনকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী করার চেষ্টা করছিলেন, তখন ব্যক্তিগত ইমেইলে এপস্টেইন ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন। ২০১৪ সালের এক ইমেইলে তিনি ভারতকে ‘নোংরা’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘আমি ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখতে চাই না।’ ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘গরম, বিষ্ঠার মতো গন্ধ, ভীষণ নোংরা।’

২০১২ সালে বিল গেটসের সাবেক বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে এক ই-মেইল বিনিময়েও এপস্টেইন ভারতের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। নিকোলিক দিল্লি ও পুনেতে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জায়গাগুলোকে ‘নোংরা’ ও ‘মধ্যবর্তী কোথাও নয়’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘এপস্টেইন সেখানে গেলে ঘৃণা করবেন।’ আরেকটি ইমেইলে এপস্টেইন নিজেই লেখেন, ‘ভারত ছাড়ছি, ঘৃণা করি।’

এ ধরনের মন্তব্য ও তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং সাম্প্রতিক এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে উঠে আসা তথ্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের