যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পারস্য: মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের মানুষ, কাটছে বিনিদ্র রাত

সোমবার,

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২০ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২০ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পারস্য: মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের মানুষ, কাটছে বিনিদ্র রাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:০১, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পারস্য: মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের মানুষ, কাটছে বিনিদ্র রাত

ইরানের আকাশজুড়ে এখন বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের সাইরেনের আতঙ্ক। গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে তেহরানসহ পুরো দেশটিতে মার্কিন হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়ন, অন্যদিকে বিদেশি আগ্রাসনের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে পারস্য উপসাগরের এই দেশটি।

তেহরানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে বাঁচতে জানালার কাচ সিল করে দিচ্ছেন, মজুত করছেন শুকনো খাবার ও জরুরি ওষুধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বোমা হামলা থেকে বাঁচার নানা পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। ৩২ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবী আরজু বলেন, “সবাই এখন প্রথম বিস্ফোরণটির অপেক্ষায় আছেন। যুদ্ধ শুরু হলে বোমা সরকারি দল বা বিরোধী দল চিনে পড়বে না।”

গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ বলা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী এটি সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এই ব্যাপক রক্তক্ষয় সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ’র মতে, সরকারের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র চুক্তি ইরানিদের মধ্যে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের শঙ্কা তৈরি করেছে। শুধু দেশের ভেতর নয়, প্রবাসে থাকা প্রায় ৪০ লাখ ইরানিও তাদের স্বজনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইন্টারনেটে বিচ্ছিন্নতা ও পরিবহন সংকটের কারণে যুদ্ধের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে।

পঁচাত্তর বছর বয়সী আমিন, যিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধ ও গত বছরের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত দেখেছেন, তিনি বলেন, “আমি এই শাসকগোষ্ঠীকে পছন্দ করি না, কিন্তু যুদ্ধকেও ঘৃণা করি। যুদ্ধ আমাদের অবশিষ্ট সবটুকু ধ্বংস করে দেবে।” ইরানের শহরগুলো এখন বাহ্যিকভাবে শান্ত মনে হলেও এই নিস্তব্ধতার গভীরে লুকিয়ে আছে এক প্রলয়ংকারী যুদ্ধের পদধ্বনি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের