মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী রোববারের মধ্যেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার অনুমতি দিতে পারেন- এমন বার্তায় এখন তটস্থ পুরো অঞ্চল। শুধু তাই নয়, হামলা হতে যাচ্ছে এমন একটি বার্তা মধ্যপাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে, একাধিক উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, এই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য কেবল ইরানের পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়; বরং তেহরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা 'রেজিম চেঞ্জ'। মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যাতে বর্তমান নেতৃত্বের পতন ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে শক্তিশালী হামলার পর ইরানিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করবে, যা সরকারের পতন ত্বরান্বিত করবে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই হামলাকে সমর্থন করছেন এবং ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন, ইসরাইল ইরানে একটি পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতে পারবে।
যুদ্ধের এই উত্তাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে ফোনালাপে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। একই সুর শোনা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কণ্ঠেও।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার শেষ চেষ্টা হিসেবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুক্রবার বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানান, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা অবশ্যই সামরিক হুমকির মুখে নয়।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি ভুল হিসাব-নিকাশ করে হামলা চালায়, তবে তা ট্রাম্পের ভাবনামতো দুই ঘণ্টার কোনো অপারেশন হবে না। যুদ্ধের পরিধি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফোয়াদ ইজাদি জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এবার অনেক বেশি কঠোর। গত ২০২৫ সালের জুন মাসের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে যে, নমনীয়তা দেখিয়ে কোনো লাভ হয়নি। এবারের নীতি হলো- হামলা হলে তারা অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনার প্রাণহানি নিশ্চিত করতে চায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় কোনো যুদ্ধে জড়ানোর আগে দুবার ভাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের ড্রোন এবং স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় থাকায় যুদ্ধের শুরুতেই এই সেনারা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বর্তমানে ইরানের দিকে এগোচ্ছে। তবে কূটনীতির দুয়ার এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে রোববারের দিকে- কূটনীতি জয়ী হয় নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

