ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ও সংলাপ উভয়ের জন্য প্রস্তুত, তবে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত মেনে নেবে না।
শুক্রবার আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আরাঘচি বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, যদি তা সমান অবস্থান, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে হয়। আলোচনাগুলো ন্যায়সঙ্গত হলে আমরা অংশগ্রহণ করব। তবে কোনো জোর বা চাপ গ্রহণ করা হবে না।’
আরাঘচি বলেন, তিনি তুরস্কে আসতে পেরে আনন্দিত এবং ফিদানের সঙ্গে আলোচনাকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও তুরস্ক প্রতিবেশী ও বন্ধু, যারা সহজ ও কঠিন উভয় সময়ে একে অপরের পাশে ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইরান যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানায় যা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনে, উত্তেজনা কমায় এবং ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে। তেহরান তুরস্কের আঞ্চলিক সংলাপের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে এবং আঞ্চলিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত, যার লক্ষ্য শান্তি, উত্তেজনা হ্রাস ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কিত প্রশ্নে আরাঘচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার চেষ্টা করেছে এবং ইরান কোনো সমস্যা দেখছে না। তবে হুমকির ছায়ায় আলোচনা হবে না। তারা হুমকি পরিহার করে ন্যায্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত হবে।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘ইরান কখনো কূটনীতি পরিত্যাগ করেনি এবং কখনো করবে না।’
আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনে কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই। ন্যায্য আলোচনার আগে ফরম্যাট, স্থান ও বিষয় ঠিক করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ ফিদানের সঙ্গে ভালো আলোচনা করেছি। আশা করি শিগগিরই একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে যা মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার নিশ্চয়তা দেবে।’
একই সময়ে, আরাঘচি সতর্কবার্তা দেন: ‘ইরান আলোচনার জন্য যেমন প্রস্তুত, যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। আমরা ১২ দিনের যুদ্ধের আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
তিনি ২০২৫ সালের জুনের মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেন, ওরা এমন সময় হামলা করেছিল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা ওমানের মাধ্যমে চলছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সংঘাত ভিন্ন হবে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত হয়, এবং এটি ‘দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধের বাইরে বিস্তৃত হতে পারে।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

