পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বন্দুক ও বোমা হামলায় ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বাগতি।
বাগতির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে।সবমিলিয়ে এসব সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৯৩ জন।
এর আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, এতে বহু সেনা নিহত হয়েছে।
এই সহিংসতাকে বেলুচিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান সরকার এই দরিদ্র প্রদেশটিতে জাতিগত বিদ্রোহ দমনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, ভারত বিএলএ-কে সমর্থন দিচ্ছে। তবে দিল্লি বারবার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিএলএ অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদ কাজে লাগালেও এর সুফল স্থানীয় জনগণ পায় না।
স্থানীয় অধিকারকর্মীরাও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও ইসলামাবাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের মোট ভূমির প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। প্রদেশটির ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং আরব সাগরের উপকূলের একটি অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।দেশটির ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ মানুষ এই প্রদেশে বাস করে।
প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও বেলুচিস্তান সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ, এখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও খনিজ সম্পদ।
প্রদেশটির নাম এসেছে বেলুচ জনগোষ্ঠী থেকে, যারা এখানকার সবচেয়ে বড় জাতিগত গোষ্ঠী।
ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৮ সাল থেকেই বেলুচ জনগণের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ শুরু হয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

