বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী লড়াই, ৪০ ঘণ্টায় নিহত ১৪৫ বিদ্রোহী

রোববার,

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১৯ মাঘ ১৪৩২

রোববার,

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

১৯ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী লড়াই, ৪০ ঘণ্টায় নিহত ১৪৫ বিদ্রোহী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী লড়াই, ৪০ ঘণ্টায় নিহত ১৪৫ বিদ্রোহী

বেলুচিস্তানজুড়ে চালানো সমন্বিত হামলার জেরে গত ৪০ ঘণ্টায় ১৪৫ জন বিদ্রোহীকে নির্মূল করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ এই সহিংসতার মোকাবিলা করছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ প্রতিবদনে এ তথ্য দিয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তঘেষা এই প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনাগুলো তাদের শক্তিশালী উপস্থিতির প্রমাণ দিচ্ছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালাচ্ছে।

কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, নিহতদের তালিকায় শুক্র ও শনিবারের অভিযানে নিহত হওয়া বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বর্তমানে চলমান ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে’ নিহতরাও রয়েছে। এর আগে সামরিক বাহিনী শনিবার ৯২ জন বিদ্রোহীকে হত্যার কথা জানিয়েছিল।

বিদ্রোহ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর থেকে এত অল্প সময়ে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদ্রোহী নিহতের ঘটনা বলে বুগতি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, এই হামলায় ১৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং দরিদ্রতম প্রদেশ বেলুচিস্তান কয়েক দশক ধরে জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছে। তারা অধিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বৃহত্তর অংশের দাবি জানিয়ে আসছে।

নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায়, পুরো প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ‘কালো ঝড়’ নামক একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে তারা।

শনিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করে, এই হামলাগুলো ‘ভারত-পৃষ্ঠপোষিত বিদ্রোহীরা’ চালিয়েছে। তবে পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশ ভারত রোববার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লির দাবি, ইসলামাবাদ নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা পাকিস্তানের ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি আরও যোগ করেন, ইসলামাবাদের উচিত হবে ওই অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর প্রতি নজর দেওয়া।

কোয়েটা, গোয়াদর, মাসতুং এবং নশকি-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় একই সঙ্গে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়। কিছু এলাকায় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোনো শহর বা কৌশলগত স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলেও পাকিস্তানি তালেবান সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হতে হচ্ছে দেশটিকে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের